ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 10 বার পঠিত

নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
তিনি বলেন, কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএনসিসিকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সিটি করপোরেশনে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরের বিভিন্ন চলাচলের পথ দখল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়ে নগরবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিএনসিসির সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখল হওয়া এলাকাগুলোর একটি ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, অনেকেই জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গাতেও দখলমুক্ত অভিযান চালানো হবে। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
পুনর্দখল ঠেকাতে নজরদারি
দখলমুক্ত করা ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত এলাকায় নজরদারি করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখল রয়েছে। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গাতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার আগে কাউকে জানানো প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন, সেখানে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, যে এলাকায় প্রয়োজন হবে, সেখানেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কিছু কুচক্রী মহল সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। দলের ভেতরে ও বাইরে যারা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযানের খবর নয়, জনগণের প্রতিক্রিয়াও গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। জনগণের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হলে এ বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করলে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
Posted ৮:১৭ এএম | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।